1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
মার্কেট পোড়েনি,  স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়েছে ব্যবসায়িদের - dailybanglakhabor24.com
  • June 8, 2024, 7:40 pm

মার্কেট পোড়েনি,  স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়েছে ব্যবসায়িদের

  • Update Time : বুধবার, এপ্রিল ৫, ২০২৩ | রাত ১:৪০
  • 63 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্মরণকালের ভয়াবহ আগুনে পুড়েছে রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেট। ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যখন রমরমা ব্যবসার স্বপ্ন দেখছিলেন, তখনই এক আগুনে সবকিছু মাটিতে মিশে গেছে। বঙ্গবাজারের এই আগুন নিভলেও এসব ব্যবসায়ীদের মনের আগুন কোনোদিন নিভবে না।
মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে তারা বলেন, তাদের এই ক্ষতি কোনোদিন পূরণ হবে না।

সন্ধ্যার পর বঙ্গবাজারের পুড়ে যাওয়া দোকানের ভস্ম থেকে ধিকি ধিকি আগুন বের হচ্ছিল। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা পানি দিয়ে আগুন নেভাতে চেষ্টা করছেন। আর মাটিতে মিশে যাওয়া বিশাল মার্কেটের মাঝে বসে আছেন চঞ্চল আহমেদ।

মার্কেটে দুটি দোকান ছিল তার। দুটোই জুতার। একটা পুড়ে ছাই। অন্যটির খবর এখনও জানতে পারেননি। সন্ধ্যা নামলে আগুনের ভস্মের মধ্যে নির্জনে বসে ছিলেন তিনি। সেখানেই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার। হাত ইশারা করে দোকানের অবস্থান দেখিয়ে বললেন, একটা ভস্মীভূত। আরেকটার পুরো ধ্বংস হয়নি।

চল্লিশ বছর বয়সী চঞ্চল বলেন, আশায় বসে আছি, যদি টালি খাতাটাও পাই, তাহলে পাওনা টাকাগুলো আদায় করতে পারব। খাতাটিতে ১৪ লাখ টাকা বাকি আছে। এ ছাড়া ১০‐১২ লাখ টাকার চেক আছে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে এগুলো সুরক্ষিত থাকতে পারে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এ ব্যবসায়ী বলেন, আগুন লাগার সময় আমি বিক্রমপুর ছিলাম। এক ব্যবসায়ী ফোন করে আমাকে খবর দিলেন। কয়দিন পর পর ফায়ার সার্ভিস বলতো, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর এই আগুন লাগল। শামসুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, দোকানে সাত-আট কোটি টাকার মাল ছিল। সব শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে আগুনে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো দোকান পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আগুনে ঘটনায় আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে থোক বরাদ্দের অনুরোধ জানান। তা না হলে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব দোকানে ব্যবসা করতেন সেই দোকানগুলো যেন তারা ফিরে পান।

মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভোর সোয়া ৬টার দিকে। পরে ৫০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। এ ছাড়া সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী; পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। সবার চেষ্টায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে রাতেও বঙ্গবাজার সংলগ্ন এনেক্সকো টাওয়ারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় আগুন জ্বলছিল। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দমকল ইউনিট থেকে অনবরত পানি দেয়া হচ্ছিলো। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের শেষ সম্বল হিসেবে যতটুকু সম্ভব মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা ভবনের ভেতরে ঢুকেছি। সেখানে পঞ্চম তলার একটি জুতার গোডাউন থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। নতুন করে বড় আগুনের সম্ভাবনা নেই। আমরা ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এখানে সারারাত কাজ করব।

এদিকে আগুনের সময় উত্তেজিত জনতার হামলায় ফায়ার সার্ভিসের ৩ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া আগুনের ধোঁয়ায় ও অন্যান্য ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২ জন আহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুনের ঘটনায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বারবার আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি এর সমাধানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার বিষয়টি সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সভায় বঙ্গবাজারে আগুনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। তিনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন, অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এতগুলো পরিবার ঈদ সামনে রেখে কী করবে, এই ভেবেও প্রধানমন্ত্রী অনেক কষ্ট অনুভব করেন।

পুনর্বাসনের আশ্বাস

আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। বিকেলে বঙ্গবাজারে অগ্নি দুর্ঘটনার বিষয়ে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশ্বাস দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগুনে আহতদের ১৫০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের পর তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

মার্কেটটি বন্ধে ১০ বার নোটিশ

২০১৯ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গবাজার মার্কেটটি ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ১০ বার নোটিশ দেয়া হয়, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

ঘটনাস্থল থেকে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ২ এপ্রিল এই ভবনটি ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছিলাম এবং ব্যানারও লাগিয়ে দিয়েছিলাম। এরপরে ১০ বার নোটিশ দিয়েছি যে, এই ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস বা আমার করণীয় যা যা ছিল তা করেছি। তারপরও এখানে ব্যবসা চলছিল।

দশবার নোটিশ দিয়েছেন এরপরে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের বা রাজউকের। তাদের অবহেলার কারণে কী ঘটনা ঘটেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, ‘এ প্রশ্নটার উত্তর আমার কাছে নেই। এ প্রশ্নটা যে সংস্থার নাম আপনারা উচ্চারণ করলেন, তাদের জিজ্ঞাসা করা ভালো।’

তদন্ত কমিটি

বঙ্গবাজারে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য ৭ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশনের ক্ষোভ

রাজধানীতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পরও তদন্ত প্রতিবেদন সামনে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা ও অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category