1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
মানতের শুদ্ধতা ও সতর্কতা - dailybanglakhabor24.com
  • June 7, 2024, 1:53 am

মানতের শুদ্ধতা ও সতর্কতা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, মে ১১, ২০২৩ | সকাল ৭:৫৩
  • 70 Time View

মুফতি এনায়েতুল্লাহ

মানতের চেয়ে দান-সদকার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি। সদকা দ্বারা মহান আল্লাহ অধিক সন্তুষ্ট হন। মানত সদকার চেয়ে উত্তম নয়। ইসলাম দান-সদকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল সাব্যস্ত করেছে। তবে ইসলামের অপরাপর আমলের মতো এই আমলটির জন্যও রয়েছে কিছু নির্দেশনা ও নীতিমালা।
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ৮টি দানবাক্সে এবার রেকর্ড ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৮৯ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। গত শনিবার ৪ মাস পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি দানবাক্সে পাওয়া যায় ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা। তবে এবারের প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন মসজিদের পরিচালনা কমিটি। এর আগে ২০২২ সালের ১ অক্টোবর ৩ মাস ১ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হলে তখন রেকর্ড ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।
এবার দানের টাকা বেশি হওয়ার কারণ
সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এই বিশ্বাস থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই দান করে থাকেন। ঐতিহাসিক এই মসজিদে লোহার আটটি সিন্দুক আছে। সাধারণত তিন মাস পরপর এসব সিন্দুক খোলা হয়। পবিত্র রমজান মাস ও ঈদের কারণে এবার চার মাসের মাথায় খোলা হয়েছে। এর মধ্যে রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর থাকায় এবার টাকা বেশি পাওয়া গেছে। এবার দানের টাকা বেশি হওয়া প্রসঙ্গে মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, প্রথমত, রমজান মাসে মানুষ বেশি দান করে থাকেন। এ ছাড়া এবার শবেবরাত, শবেকদর ও ঈদের বিশেষ দিন থাকায় টাকার পরিমাণটা বেশি হয়েছে। মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান বলেন, সওয়াবের নিয়তে মসজিদে অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে দান-খয়রাত করে থাকেন। সঠিক নিয়তে দান করলে মানুষের ইচ্ছা, মনের আশা ও মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাস থেকে মানুষ এখানে টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন জিনিস দান করেন।

মসজিদের টাকা দুটি ব্যাংকে রয়েছে। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংকে নিয়মিত লেনদেনের পাশাপাশি মেঘনা ব্যাংকে একটি ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। আর দানবাক্সে জমা পড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছে।

টাকা খরচ হয় যেসব খাতে

কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম আলোচিত একটি মসজিদ। কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে ১০ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত মসজিদটি। মসজিদের পরিধির সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি। মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবনও।

১৯৭৯ সাল থেকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে পাগলা মসজিদের কার্যক্রম চলে আসছে। তখন থেকেই সরকারের ওয়াকফের নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদের আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়। মসজিদের দানবাক্সে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে জেলা শহরের ঐতিহাসিক শহিদি মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি পাগলা মসজিদের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের খরচসহ জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও সহায়তা করা হয় এই তহবিল থেকে। তবে এখানে ইসলামি কমপ্লেক্সের উদ্যোগ নেওয়ার কারণে গত প্রায় দুই বছর ধরে অন্যান্য মসজিদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে।
নির্মিত হবে অত্যাধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স
মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মসজিদে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে দ্রুত ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। যাতে প্রায় ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১২টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর নকশা চূড়ান্ত হলেই কাজ শুরু হবে। মূল মসজিদটি ছয়তলা বিশিষ্ট হবে। প্রতি তলায় একসঙ্গে পাঁচ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। পাশাপাশি আরও পাঁচ হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া শুক্রবার বা বিশেষ দিনে মসজিদের প্রাঙ্গণ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয়তলা ভবনটির নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা
থাকবে। থাকবে একাডেমিক ভবন ও অতিথিশালা। অতিথিশালায় রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবস্থানের ব্যবস্থাও থাকবে। মাদ্রাসা, গ্রন্থাগারসহ উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম ও ১২০ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন মিনার থাকবে, যাতে আকর্ষণীয় লাইটিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া ভবনটিতে স্বয়ংক্রিয় আলোর ব্যবস্থা থাকবে, যা হবে দেশের মধ্যে অনন্য এক স্থাপনা।
দিন দিন বাড়ছে দানের পরিমাণ
দীর্ঘদিন ধরেই পাগলা মসজিদে মানুষ দান করে আসছেন। তবে দানের বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়া শুরু হয় ২০১৫ সালের শুরুর দিকে। তখন ৮টি লোহার সিন্দুক খুলে একসঙ্গে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। তখনকার সময়ে ছয় মাস পরপর সিন্দুক খোলা হতো। এর পরেরবার পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৭৮ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের শেষের দিকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার ওপরে মিলেছিল সিন্দুকে। দিন দিন টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা বেড়ে যাওয়ায় এর পর থেকে ছয় মাসের জায়গায় তিন মাস পরপর টাকার সিন্দুক খোলার সিদ্ধান্ত হয়। গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা, একই বছরের ৭ জুলাই ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা, একই বছরের ১৩ অক্টোবর ১ কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পাওয়া যায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে বৈশি^ক মহামারী করোনার কারণে কিছুদিনের জন্য সবকিছু বন্ধ থাকলেও পাগলা মসজিদে দানের প্রবাহ বন্ধ থাকেনি। ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর আবারও দানসিন্দুক খুলে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৮ টাকা পাওয়া যায়। এরপর ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা, একই বছরের ২২ আগস্ট ১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি মসজিদের দানসিন্দুক খোলার পর সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া যায়। একই বছরের ১৯ জুন স্বর্ণালঙ্কার, বৈদেশিক মুদ্রাসহ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ টাকা পাওয়া যায়। একই বছরের ৭ নভেম্বর আবারও দানসিন্দুক খুলে সোনা, হীরাসহ রেকর্ড ৩ কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা পাওয়া যায়।
২০২২ সালের ১২ মার্চ স্বর্ণালঙ্কার, হীরা ও বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা। একই বছরের ২ জুলাই আবারও দানসিন্দুক খুলে ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা পাওয়া যায়।
২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে চলতি বছরের ৬ মে পর্যন্ত ৫ বছরে ১৫ বার দানসিন্দুক খুলে কেবল নগদ টাকা পাওয়া গেছে প্রায় ৩৭ কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮৬ টাকা। এর বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা, অলঙ্কারাদি, হাঁস-মুরগি, বাতাসা, মোমবাতি থেকে বিক্রিলব্ধ টাকা তো রয়েছেই। এগুলোর হিসাব গণমাধ্যমে সেভাবে আসে না।

মসজিদ নিয়ে জনশ্রুতি

মসজিদটির প্রতিষ্ঠা নিয়ে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। এর মধ্যে প্রসিদ্ধগুলোর একটি হলো ১৬ শতকের বাংলার বারো ভূঁইয়া সর্দারদের একজন বীর ঈসা খানের অধস্তন পুরুষ দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিলকদর পাগলা আধ্যাত্মিক সাধনায় জীবনযাপন করতেন। আধ্যাত্মিক এই পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিত হন এবং তাকে ঘিরে আশপাশে অনেক ভক্ত সমবেত হন। পরে তার ইবাদত-বন্দেগির জন্য দেওয়ান পরিবারের পক্ষ থেকে নদীর মাঝখানে টিলার ওপর একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। কালের পরিক্রমায় সেটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আরেক জনশ্রুতি হলো, হয়বতনগরের প্রতিষ্ঠাতাদের পরিবারের এক নিঃসন্তান বেগমকে জনগণ ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকত। দেওয়ানবাড়ির এ বেগম নরসুন্দার তীরে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করলে ‘পাগলা বিবি’র নামে পরিচিতি পায়। এ রকম আরও অসংখ্য জনশ্রুতি মিলে এলাকার লোকমুখে।

মানত ও সাধারণ দানের পার্থক্য

কোনো বৈধ বস্তু অর্জনের আশায় মানত করা জায়েজ। ইসলাম মানতকে বৈধ বললেও তাকে নিরুৎসাহ করেছে। মানত শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত হলো, এটা একমাত্র আল্লাহর নামে হতে হবে। পরিভাষায় মানত বলা হয়, ‘শরিয়তের বিধান প্রযোজ্য হয় এমন ব্যক্তি কর্র্তৃক নিজের ওপর এমন কোনো কাজ আবশ্যক করা, যা শরিয়ত আবশ্যক করেননি।’ আল ফিকহু আলা মাজাহিবিল আরবায়া : ২/৭৭৯

মানত শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইসলামি স্কলাররা বেশ কিছু শর্তারোপ করেন। যেমন এমন নেক কাজের মানত করা- যে কাজ ফরজ কিংবা ওয়াজিব হওয়ার নজির শরিয়তে আছে। এ ছাড়া বান্দার সাধ্যের ভেতর হওয়া, নিজের মালিকানাধীন হওয়া, তা পাপের কারণ বা উপলক্ষ না হওয়া ইত্যাদি।

এসব শর্তের আলোকে বলা চলে, মসজিদের জন্য মানত করা সহিহ নয়। তাই মসজিদের জন্য মানত করলে তা ওয়াজিব হয় না। তবে মানত না হলেও এ ধরনের ওয়াদা পূর্ণ করা উত্তম। ওই দান নফল হিসাবে গণ্য হবে এবং তা মসজিদ কল্যাণের কাজে ব্যয় করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই, মানত পূরণের জন্য শরিয়তের সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। মানতের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের ওপর কোনো কষ্ট চাপিয়ে নেবে না।

পাগলা মসজিদে দান নিয়ে সতর্কতার পরামর্শ

মানুষ যেসব বিশ্বাস নিয়ে পাগলা মসজিদে দান করেন, তা শরিয়তে কতটুকু গ্রহণযোগ্য? কয়েক বছর ধরে এ আলোচনা চলছে। এবার সিন্দুকের টাকার সঙ্গে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে।

চিরকুটে পারভীন লেখেন, ‘আমার নাম পারভীন। আমার শরীর অনেক অসুস্থ। আমার পাগলা বাবার মসজিদে আসার অনেক ইচ্ছা ছিল, আসতে পারলাম না। পাগলা বাবার মসজিদে আমার আরজি যে, আমার ছেলেমেয়েকে যেন ভালো জায়গায় বিয়ে দিতে পারি। আমার শরীরে অনেক ব্যথা, আমি চলতে পারি না। আমার কিডনি সমস্যাও আছে। আমি পাগলা বাবার কাছে এই দোয়া চাই যেন, আমার এই সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যায়। তাহলে আমি পাগলা বাবার মসজিদের দানবাক্সে দুই হাজার টাকা দিব। আর আমি যদি ভালো থাকি, তাহলে আমি নিজেই আসব। আমি তো শুনি, পাগলা বাবার কাছে যে আসে সবার মনের আশা পূরণ হয়। আমার আশাগুলো যেন পূরণ হয়। আমিন।’

চিরকুটে পাগলা বাবার মসজিদে আরজি, পাগলা বাবার কাছে মনের আশা পূরণের প্রত্যাশা সরাসরি শিরকমূলক কথা। প্রাপ্ত চিরকুটে বারবার পাগলা বাবাকে মনোবাসনা পূরণের মালিক বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এটা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ মানুষের সব কিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। কোনো মসজিদ, পীর বা দরবেশের কোনো ক্ষমতা নেই। লোকমুখে যতটুকু জানা যায়, পাগলা বাবা একজন কামিল মানুষ ছিলেন। তাকে উছিলা ধরে দোয়া করা যাবে, যেমন নবী-রাসুল বা অলি-আউলিয়াদের অছিলা দিয়ে দোয়া করা যায়। এর বাইরে তাকে সরাসরি মনোবাসনা পূরণের মালিক বা ক্ষমতাবান মনে করা শিরক। এগুলো পরিহার একান্ত কতর্ব্য।

হ্যাঁ, কোনো মুসলিম আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনের বাসনা পূরণের আশায় আল্লাহর ঘরে দান করাতে শরিয়তের নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং নেক আমলকে উসিলা বানিয়ে আল্লাহর কাছে চাইতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে ওই দান কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে থাকতে হবে। এই বিশ্বাস থাকলে, দানের টাকা পাগলা মসজিদের বাক্সেই ফেলে আসতে হবে, এটা ইসলামি স্কলাররা মনে করেন না। নিজের গ্রামে, মহল্লার মসজিদেও সেই দান করা যায়, সব মসজিদ আল্লাহর কাছে সমান।

শুধু এবার নয়, আগেও এমন অনেক চিরকুট পাওয়া গেছে। সেসব চিরকুটের ভাষ্যে এটা স্পষ্ট যে, পাগলা মসজিদে দানকে কেন্দ্র করে বিশ্বাসগত কিছু অসঙ্গতি ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। এসব থেকে সতর্ক থাকা দরকার। মনে রাখতে হবে, সহিহ-শুদ্ধ নিয়তবিহীন কোনো আমলেরই আল্লাহর নিকট মূল্য নেই। নিয়ত যদি সঠিক না হয়, আল্লাহর নিকট সেই আমলের কোনো ধর্তব্য হয় না, এমনকি আমলগুলোর সওয়াব ও প্রতিদান পাওয়া যায় না। এক কথায় সব আমলের শুদ্ধতা এবং তার সওয়াব ও প্রতিদান নির্ভর করে নিয়তের ওপর। কিন্তু নিয়ত যদি সহিহ না হয়, তখন হিতে বিপরীতও হয়ে যেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category