1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
ভাই হত্যার বিচার চাওয়াই কাল হয়েছে মিজানের জোসেফ-হারিস-আনিসের বিচার চাইলেন সাবেক দুই কাউন্সিলর # প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা - dailybanglakhabor24.com
  • June 8, 2024, 8:05 pm

ভাই হত্যার বিচার চাওয়াই কাল হয়েছে মিজানের জোসেফ-হারিস-আনিসের বিচার চাইলেন সাবেক দুই কাউন্সিলর # প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • Update Time : রবিবার, মে ২৮, ২০২৩ | রাত ২:০৫
  • 53 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ-হারিস-আনিস তিন ভাইয়ের বিচার চাইলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার সাবেক দুই কাউন্সিলর। সুষ্টু বিচারের দাবিতে
তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ও কামনা করেছেন তারা।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান বলেছেন, ভাই হত্যার বিচার চাওয়াই কাল হয়েছে তার।

রবিবার দুপুরে সেগুনবাগিচস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান।

সংবাদ সম্মেলনে নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব বলেন, আমি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন নিবেদিত কর্মী। খুব অল্প বয়সেই আমি সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি দেখে ঈর্ষান্বিত হয় ঢাকার সন্ত্রাসীগোষ্ঠী তোফায়েল আহমেদের জোসেফ-হারিস আহমেদ- আনিস আহমেদ গং। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের ২০১৯ সালের অক্টোবরে আমাকে গ্রেফতার করানো হয়। এসব কিছু করা হয়েছে, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার সন্ত্রাসী ভাইদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন- আমাকে আটকের পর রাতভর আমার বাসা ও অফিসে তল্লাশি অভিযান চলেছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তাদের মতো করে সন্ধান করেছে। তবে অভিযান শেষে অভিযান পরিচালনাকারী দল গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, আমার কোন ক্যাসিনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ সেই অভিযান ছিল ‘ক্যাসিনো অভিযান’। আমার বিরুদ্ধে অঢেল সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এমনকি বিদেশে আমার কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য-প্রমাণও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের তদন্তে পায়নি।

নব্বই দশক থেকে জোসেফ হারিস পরিবার ঢাকা শহরের সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত জানিয়ে সাবেক এই কাউন্সিলর বলেন, তারা রাজনৈতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়। মোহাম্মদপুর তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পুরনো অভয়ারণ্য। সেই এলাকার একজন কাউন্সিলর ছিলাম আমি। আমার জায়গায় তাদের ভাতিজা আসিফ আহমেদকে কাউন্সিলর বানাতে পরিকল্পিতভাবে আমাকে গ্রেফতার করানো হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আমাকে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত একটা মামলা কিংবা জিডি পর্যন্ত ছিল না।

তারেকুজ্জামান রাজীব বলেন, কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত না হয়েও শুধুমাত্র ওই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর প্রভাবে আমাকে নিশংসভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিনা অপরাধে তিন বছরের বেশি সময় জেলে থাকতে হয়েছে। আমার জীবন থেকে তিনটি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবার ওই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর হুমকির মুখে আছি। আমার প্রাণনাশের শঙ্কা রয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনায় জড়িত বিশেষ মহলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

একই দাবি করেছেন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানও।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার নাম হাবিবুর রহমান মিজান। আমি মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন অনুগত কর্মী। আমি ফ্রিডম মিজান নই। ফ্রিডম মিজান সাজাপ্রাপ্ত আসামি ।

তিনি বলেন, আজ আমি গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। আপনাদের কাছে যে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছি তা হলো-আপনারা নিশ্চই অবগত আছেন ১৯৯৬ সালের ৭ মে মোহাম্মদপুরে আমার ভাই মোস্তাফিজুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার জজ আদালত। সেই রায়ের বিরুদ্ধে জোসেফ আপিল করলেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে আপিল বিভাগ এ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই মামলায় আরও আসামী ছিলেন জোসেফের ভাই হারিস আহমদ ও আনিস আহমদ। যারাও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। হারিস ও আনিস রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা পেয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এমনকি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তাদের কারাগারে যেতে হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে এখনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ আছে।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান ২০১৮ সালের মে মাসে। বড় ভাই হারিস আহমেদের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে আসেন জোসেফ। এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন হারিস। নব্বই দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে হারিস দলবদল করেন। বড় ভাইয়ের ক্যাডার বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বপালন করতেন জোসেফ। ওই সময় মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগসহ আশপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন জোসেফ। যোগ দেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপে। জোসেফের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এখনো চলছে।

সাবেক ওই কাউন্সিলর বলেন, ২০১৯ সালে পরিবর্তিত এক পরিস্থিতিতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় আমাকে আটক করা হয়। যদিও এর আগে আমার নামে কোনো থানায় কখনো কোনো মামলা ছিল না। ওই সময় আমার বিরুদ্ধে সাজানো সব অভিযোগ আনা হয়। এমনকি আমার নামও বদলে দেয়া হয়। আমার নাম দেয়া হয় মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান। অথচ আমার নাম হাবিবুর রহমান মিজান। সরকারের ওই অভিযান ছিলো ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। অথচ এ ধরণের কোনো কর্মকান্ডে আমি সম্পৃক্ত না থাকলেও সম্পুর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে গ্রেফতার করা হয়। আমার বাসায় থাকা মূল্যবান দলিলপত্র, টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। যা মামলার জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি। আজও তা আমি ফেরত পাইনি।
একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সরাসরি ইন্ধনে ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ-হারিস- আনিসের মদদে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক আছে, তার নামে আমার পরিচয় দেয়া হয়। ওই সময়ের বিভীষিকা আমি কখনো ভুলতে পারবো না । আমাকে গ্রেফতারের মূল কারণ ছিল-সন্ত্রাসী জোসেফ গংরা মোহাম্মদপুর এলাকায় আবারও তাদের পুরনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করা। অথচ আমার ভাই হত্যায় তার ফাঁসির আদেশ হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনায় জোসেফ অঙ্গীকার করেছিল সে ভালো হয়ে গেছে, আর কোনোদিন কোনো খারাপ কাজ করবে না। বাস্তবে তার প্রমাণ পাওয়া যায় না। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা তার এক আপনজনের সরাসরি সহযোগীতায় আমার ওপর ও ধরণের নৃসংশতা চালায় তারা।

আমাকে গ্রেফতারের পর সাজানো ও মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অত্যন্ত দু:খ আর পরিতাপের বিষয়ে সে সময় ২০২০ সালে আমার প্রিয়তম স্ত্রী মনি রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। আমি তার মরা মুখটাও দেখতে পারিনি। আমার মা মারা যান। বড় বোনের জামাই ও অনেক আপনজন মারা গেলেও তাদের ধর্মীয় বিদায়ে আমি অংশ নিতে পারি নাই। যা এক ভয়ংকর দুঃসময় ছিল আমার জন্য। যে ভয়ংকর সময় আমি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি। আমার মাথার ওপর এখনো ঝুলছে কথিত অর্থপাচার এবং অবৈধ অস্ত্র মামলা। যার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগের পর অবশেষে আমি মুক্তি পাই গত বছর ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর। আমাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিকার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছি। এটাই আমার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ ও তার প্রভাবশালী শক্তি আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category