1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
না ফেরার দেশে চিত্রনায়ক ফারুক - dailybanglakhabor24.com
  • June 8, 2024, 8:46 pm

না ফেরার দেশে চিত্রনায়ক ফারুক

  • Update Time : সোমবার, মে ১৫, ২০২৩ | রাত ২:৪৬
  • 57 Time View

মোহাম্মদ সেলিম মিয়া

তিন বছর আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন সখী কবরী। এবার সুজন ফারুকও চলে গেলেন পরপারে। দেশের অগণিত ভক্ত ও চলচ্চিত্রানুরাগিদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মিয়াভাইখ্যাত কিংবদন্তী চলচ্চিত্রাভিনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ড এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ তিনি অসংখ্য স্বজন ও গুনগ্রাহি রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
কাল মঙ্গলবার ভোরে তার মরদেহ দেশে এসে পৌঁছাবে। সেখান থেকে থেকে মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সর্বস্তরের নাগরিকদের শ্রদ্ধাঞ্জলী শেষে দুপুর ১টার দিকে মরদেহ নেওয়া হবে তার প্রিয় কর্মস্থল বিএফডিসি প্রাঙ্গণে। সেখানে ফুলেল শ্রদ্ধা ও জানাযা শেষে নিথর দেহ নেওয়া হবে উত্তরার নিজ বাসায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে সমাহিত করা হবে। তবে, এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত দাফনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়নি তার পরিবার। দীর্ঘ প্রায় আট বছর যাবত সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন নায়ক ফারুক। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে সর্বশেষ ২০২১ সালে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যান তিনি। তখন তার রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর সেই সংক্রমণ মস্তিস্কেও ছড়িয়ে পড়ে। শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ার পর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। আর গতকাল সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরে জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। বাবা আজগর হোসেন পাঠান। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে ফারুক সবার ছোট। মানিকগঞ্জে জন্ম হলেও তার বেড়ে উঠা পুরান ঢাকায়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ৬৬র ছয় দফা আন্দোলনকালে ৩৭টি মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরছিলেন। এরপর ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশ নেন। ১৯৬৮ সালে এইচ আকবরের ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু। ‘সুজন সখী’খ্যাত এই জুটির সুজন ফারুক প্রথম ছবিতেই নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন সখী কবরীকে। ছবিটি ১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তি পায়। এরপর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ৭৪ সালে নারায়ন ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় চলে আসেন মিয়াভাইখ্যাত এই অভিনেতা। ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর চলচ্চিত্রে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’ লাভ করেন। ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঘরের লক্ষ্মী’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের ফিল্ম ক্যারিয়ারকে বিদায় জানান ফারুক।
ফারুক অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- ‘জলছবি’ আবার তোরা মানুষ হ’, আলোর মিছিল, সুজন সখী, লাঠিয়াল, সূর্যগ্রহণ, নয়নমনি, মাটির মায়া, সারেং বৌ, গোলাপী এখন ট্রেনে, নাগরদোলা, সূর্য সংগ্রাম, দিন যায় কথা থাকে, কথা দিলাম, সাহেব, মাটির পুতুল, ছোট মা, ঘরজামাই, এতিম, তৃষ্ণা, শক্তিশালী, শেষ পরিচয়, কালা খুন, যাদু মহল, দুরন্ত দুর্বার, চেনা মুখ, আশা, জীবন মানে যুদ্ধ, চোখের মনি, যৌতুক, মাসুম, শহর থেকে দূরে, মেহমান, প্রিয় বান্ধবী, দোস্তী, জীবন মৃত্যু, প্রতিজ্ঞা, পুনর্মিলন,অন্ধ বধূ, সখি তুমি কার, ছক্কা পাঞ্জা, জনতা এক্সপ্রেস, লাল কাজল, যন্তর মন্তর, আরশিনগর, হাসু আমার হাসু, মায়ের আঁচল,জীবন নিয়ে যুদ্ধ,মান অভিমান, ঝিনুক মালা, শিমুল পারুল,মিয়া ভাই, ভুল বিচার, দাঙ্গা ফ্যাসাদ, পালকি, লাখে একটা, ভাই ভাই,
পদ্মা মেঘনা যমুনা, দুখিনী মা,জীবন সংসার, এখনো অনেক রাত, কোটি টাকার কাবিন, ঘরের লক্ষ্মী ইত্যাদি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category