1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
ডিজিটাল-সাইবারে মন্দের ভালো - dailybanglakhabor24.com
  • May 7, 2024, 9:33 am

ডিজিটাল-সাইবারে মন্দের ভালো

  • Update Time : রবিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৩ | বিকাল ৩:৩৩
  • 45 Time View

মোস্তফা কামাল

সাইবারকে নিরাপত্তাহীন রাখা যায় না। আইনহীন বা বেআইনি রাখার বিষয় নয় এটি। এ সংক্রান্ত আইন লাগবেই। কিন্তু, গোলমালটা অন্য জায়গায়। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়, চুন খেয়ে গাল পোড়ে দই দেখলে ভয় করে–প্রবাদের ব্যাপক কদর ও বাস্তবতা বাংলাদেশে। সাইবার আইনের আগে ডিজিটাল আইনে সরকার যেভাবে টাল হয়ে মানুষকে বেতাল করেছে, তা ভোলা বা ভুলিয়ে দেয়া সোজা কাজ নয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এর দ্বারা ৭ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। সেই মামলাগুলো বাতিল বা খারিজ না করে এখন সাইবার আইনকে মৃদু বা মধুময় বলে চালানো মোটেই সুস্থ চিন্তা নয়।
বহুল আলোচিত-সমালোচিত, বিতর্কিত-নিন্দিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের নাম বদলকে কোনো কোনো গণমাধ্যমে শুনেছে বাতিল। তারা অতি উৎসাহে ‘আইন বাতিল’ বলে ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে দেয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল নয়, সংশোধনও নয়। এ আইন পরিবর্তন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন নামে নতুন আইন হবে। আর দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ডিজিটাল নিারাপত্তা আইনের মামলাগুলো চলবে সাইবার নিরাপত্তা আইনে। কথাবার্তা একদম পরিস্কার। সাইবার আইনে ডিজিটাল আইনের প্রায় সব বিধানই থাকছে। প্রায় ৪ বছর ১০ মাস ধরে এই আইনের যে খড়্গ ও আতঙ্ক হাজার হাজার মানুষকে দাবড়িয়েছে তার হেরফের হচ্ছে না। বরং আরও অনেক প্রশ্নের সঙ্গে উদ্বেগে টোকা পড়েছে। এ সংক্রান্ত আইন আগেও ছিল। ২০০৬ সালের আইসিটি অ্যাক্ট ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়ে ৫৭ ধারার ভয়াবহতার মাত্রা বাড়িয়েছিল। সেই আইনের বিকল্প হিসেবে ২০১৮ সালে করা হয় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট।
ঔপনিবেশিক আমলের ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টকে রেখে দেওয়া হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলে শাসকগোষ্ঠী এ দেশের মানুষকে সন্দেহ করত বলে অফিশিয়াল সিক্রেটস আইন জারি করেছিল। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৩ ধারা অনুযায়ী, পুলিশকে বাসাবাড়িতে প্রবেশ, অফিসে তল্লাশি, লোকজনের দেহ তল্লাশি ও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সার্ভার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংক্রান্ত সবকিছু জব্দ করার ক্ষেত্রে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এই ধারা বলে পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহবশত যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এর মাধ্যমে পুলিশকে কার্যত এক ধরনের ‘বিচারিক ক্ষমতা’দিয়ে দেয়া হয়েছে। তা সভ্যতার মাঝে পড়ে না। এরপরও নির্বাচন সামনে রেখে মানুষের মধ্যে একটা নাড়া দেয়া, বিদেশিদের চাপ কমানো বা যে কারণেই হোক সরকার অন্তত একটা পদক্ষেপ নিয়েছে। যা ডিজিটাল আইনের অন্যায্যতার একটি স্বীকারোক্তি। আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘এর মধ্যে অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে, এমন বিধান সংশোধন করা হয়েছে। জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়াটি এ ক্ষেত্রে বেশ ইন্টারেসিটং। তিনি বলেছেন, আইনমন্ত্রী ঠিক বলে থাকলে ঠিকই আছে।
এখন একটু দেরিতে হলেও প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে সর্বসাধারনের মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরইমধ্যে আইনের খসড়াটি সরকারের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। উদ্যোগটিকে স্বাগত জানাতে কৃপণতা না করাই উত্তম। আইনটির খুঁটিনাটি নিয়ে, একেবারে ধারা উপধারা ধরে ধরে আলোচনা পর্যালোচনা হলে ফল মিলতেও পারে। সরকার আগে এ কাজটি করেনি বলে এখন করা যাবে না, তা না ভাবাই সমীচিন। ডিজিটাল নিারাপত্তা আইন জারির পর থেকে সরকারের দাবি ছিল – জাতির প্রয়োজনে জনস্বার্থেই তা করা হয়েছে । আরোপের আগ থেকেই এটি নিয়ে মানুষের আপত্তি। প্রনয়নের পর এ আইনে অবিরাম হয়রানির প্রেক্ষিতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ বাতিলের দাবি ওঠে। কেউ কেউ দাবি তোলেন সংশোধনের। কিন্তু, সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে প্রণীত আইন বাতিল দূরে থাক সংশোধনেরও প্রশ্নই আসে না। এখন আইনটি পরিবর্তন করে বলা হচ্ছে তা জনস্বার্থেই করা হয়েছে। এতে জনমতের প্রতিফলন হয়েছে। জনস্বার্থ আর জনমত শব্দের সঙ্গে এ ধরনের মশকরায় অভ্যস্ত সরকারগুলো। ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করার সময় সংবাদমাধ্যমের অংশীজনদের উদ্বেগ আমলে নেয়নি সরকার। নির্বাচনের আগে একটি আবহ তৈরি উদ্দেশ্যে সেই আইন সংশোধন বা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও তাঁদের মতামত নেওয়া যেত। সেটাই ছিল প্রত্যাশিত। এখন যে তা করার চেতনা জেগেছে তাও কম কী? অন্তত মন্দের ভালো বলাই যায়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মূল আপত্তির জায়গাগুলোতে কোন পরিবর্তন আসেনি। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানহানির মামলায় সাংবাদিকদের শাস্তি কারাদণ্ডের বদলে ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধানের কথা বলা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, দণ্ডবিধি ১৮৬০–এর অধীনে মানহানির দায়ে যে শাস্তির বিধান আছে, সেটা সংশোধন না করা হলে নতুন বিধান অকার্যকর হতে বাধ্য। দ্বিতীয়ত ২৫ লাখ টাকা জরিমানা শোধ না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে। প্রচলিত ফৌজদারি আইনে যে অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে বিধিবিধান আছে তার পরিবর্তে এসব শাস্তির বিধানের যৌক্তিকতা আরো বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারাটি রেখে দেওয়া হয়েছে। এই ধারার মাধ্যমে শাস্তির মাত্রা কিছু কমানো হলেও ঔপনিবেশিক আমলের ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টকে রেখে দেওয়া হয়েছে।
শাস্তি কমানোর মতো বিষয়টি নতুন আইনে অন্তর্ভূক্ত করা হলেও এটি আসলে খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ নয়। বরং যেসব ধারা নিয়ে বিতর্ক ছিল সেগুলো এখনো বহালই রেখে দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে জায়গাগুলো নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল সে জায়গাগুলো সাইবার নিরাপত্তা আইনেও রয়ে গেছে। যার ফলে এটি অপপ্রয়োগেরও সুযোগ রয়েছে । এই আইনের আওতায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি নামে নতুন একটি সংস্থা হবে যাদের কাজ হবে সাইবার সংক্রান্ত অপরাধগুলোকে চিহ্নিত করা এবং এই অপরাধগুলোর জন্য শাস্তির মাত্রা ঠিক করা। আগের আইনের কাঠামোয় অ-জামিনযোগ্য ধারা থাকলেও সেগুলো নতুন আইনে বেশিরভাগই জামিনযোগ্য করা হয়েছে। তবে ১৭, ১৯, ২১, ২৭, ৩০ ও ৩৩ ধারা এখনো অ-জামিনযোগ্য রয়েছে। তবে, নতুন আইনে মানহানির অভিযোগ মোকাবিলায় যেসব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তাতে সাংবাদিকদের রেহাইর বার্তা দেয়া হচ্ছে। বাস্তবটা একেবারেই ভবিষ্যৎ। ডিজিটার নিরাপত্তা আইনের ৪৩ ধারায় পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনে এই ধারাটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে- পুলিশ কেন. বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষমতা বুজর্গরাও হাতছাড়া না করে পারেন না।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের কেউ কেউ প্রস্তাবিত নতুন আইনে সাজা কমানো ও জামিনযোগ্য ধারা বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে, আইনের সংজ্ঞা আগের মতোই বহাল রাখায় এবং বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন না আনায় আশঙ্কা তাদের পিছু ছাড়ছে না। মানহানির ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারায় যে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ছিল সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের এ পরিমাণ টাকা দেশের কতজন সাংবাদিকের আছে, তা ভাবনার বিষয় না হয়ে পারে?

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category