1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
ঈদ উল ফিতর: মানব সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন - dailybanglakhabor24.com
  • May 10, 2024, 6:38 am

ঈদ উল ফিতর: মানব সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন

  • Update Time : শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ | দুপুর ১২:৩৮
  • 61 Time View

ড. মতিউর রহমান

রমজান শেষে খুশির বার্তা নিয়ে আবারও এসেছে ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। ঈদ উৎসব নিছক ধর্মীয় নয়, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আর ঈদের উৎসবও সর্বজনীন। ঈদের সামাজিক অর্থ হলো উৎসব, আর ভাষাগত অর্থ হলো বারবার প্রত্যাবর্তন। তাই প্রতি বছর মুসলমানদের জীবনে ফিরে আসে খুশির ঈদ।

বাংলাদেশে ঈদ জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়। এই দিনে সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো পোশাক পরে। বাড়িতে ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থা করে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরাও এই আনন্দে শরিক হন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীও এই দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দের সাথে পালন করে। এই দিনে মুসলমানরা ঈদগাহ বা মসজিদে নামাজ পড়েন।

ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে ঈদের আবেগ ও আনন্দ শেয়ার করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সমাজের ধনী ও সামর্থ্যবানরা দরিদ্রদের একটি নির্দিষ্ট হারে যাকাত ও ফিতরা বিতরণ করে, যা ধনীদের জন্য ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক।

বাংলা অঞ্চলে আজও ঈদ ও ঈদ উৎসবের ইতিহাস সঠিকভাবে জানা যায় না। বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের ইতিহাস বিভিন্ন ঐতিহাসিক বই, সূত্র এবং যোগাযোগ থেকে কিছুটা জানা যায়।ঐতিহাসিক ও পণ্ডিতরা উল্লেখ করেছেন যে ঈদ উৎসব ধ্রুপদী ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তাঁরা আরও বলেন, যদিও দ্বাদশ শতাব্দীতে বাংলায় ইসলামের আগমন ঘটে তবে শাস্ত্রীয় ইসলাম চার থেকে পাঁচশ বছর ধরে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। সেকালের বাংলায় ঈদ উৎসবের তেমন কোনো ঘটনা লক্ষ্য করা যায় না। কারণ দুটি হতে পারে: এক- গ্রাম বাংলার মুসলমানরা দরিদ্র ছিল এবং দুই- মুসলমানদের মধ্যে স্বতন্ত্র সম্প্রদায়বোধ প্রবল ছিল না। ফলে ধর্মীয় উৎসবকে সামাজিক ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করার শর্ত তৈরি হয়নি। এবং এটি সর্বজনবিদিত যে একটি দৃঢ় সামাজিক ভিত্তি ছাড়া কোন উৎসব উদযাপন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সপ্তদশ, অষ্টাদশ, ঊনবিংশ শতাব্দীতেও বৃহত্তর বাংলায় ঈদ উৎসব দেখা যেত না।

অভিজাত লোকেরা (নবাব বা বাদশা) ঈদ উদযাপন করত, কিন্তু তা তাদের এবং উচ্চবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ঈদ সাধারণ মানুষের সামাজিক উৎসব হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেনি। উনিশ শতক জুড়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শহুরে জীবন এবং গ্রামীণ ধনী বা শিক্ষিত সমাজকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল। অন্যান্য ধর্মের কঠোর আচরণবিধি বাংলায় ইসলাম ধর্মের প্রসারে সহায়তা করে। ফলে ইসলাম ধর্মের নানা অনুষঙ্গ ও উৎসবাদি প্রচলিত হতে থাকে। সাধারণ মানুষ এসব উৎসব পালন করা শুরু করে।

যাই হোক, ঈদ-উল-ফিতর ভালোবাসা ও মিলনের উৎসব, মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার উদযাপন। এটা সবার জন্য আনন্দ নিয়ে আসে। ঈদ সকল মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। জাতীয় জীবনে এর আবির্ভাব সর্বত্র দেখা যায়। সব ক্ষেত্রে, এর ইতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ধর্মের মানুষও ঈদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুফল ভোগ করে।

সামাজিক গুরুত্ব ছাড়াও এর অর্থনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব রয়েছে। ঈদ উৎসবকেন্দ্রিক আয়োজনও কম নয়। ঈদকে সামনে রেখে ঈদের বাজার চাঙ্গা হয় যা একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকেও মজবুত করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদের বাজারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন। দারিদ্র্য হ্রাস, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ায় ঈদকেন্দ্রিক লেনদেন প্রতি বছর বাড়ছে।

ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা অনেক রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। ঈদের সময় বৈদেশিক অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হয়। ব্যাংকিং খাতও শক্তিশালী হয়। এ উপলক্ষে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি লেনদেন হয়।

ঈদের সময় এই আনন্দ উৎসব উপভোগ করতে সবাই চায় প্রিয়জনের কাছাকাছি থাকতে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরেবাস করে। আর তাদের অধিকাংশ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন গ্রামে থাকে। তাই ঈদের উৎসবে তারা নাড়ির টানে গ্রামে ফেরে। বাড়ি না ফিরলে অধিকাংশ পরিবারই ঈদ উদযাপন অসম্ভব বলে মনে করে। তাই পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গ্রামে ফেরেন তারা।

এ ছাড়া, ঈদের সময় অপেক্ষাকৃত বেশি ছুটি থাকায় অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যেতে পারেন। এ কারণে সামাজিক সম্পর্ক জোরালো হয়। ঈদে মানুষের যাতায়াত বেশি হয়। ফলে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে আসন না পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে অভ্যন্তরীণ যাত্রীরা প্রতি বছরই ভোগান্তিতে পড়েন। অন্যান্য সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যানজট সৃষ্টি, সড়ক দুর্ঘটনা ইত্যাদি। গণপরিবহনের উচ্চ ভাড়া এবং সময়সূচীর ব্যাঘাত যাত্রীদেরকে ভোগান্তিতে ফেলায়। তাছাড়া ঈদের আগে ও পরে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকে নিহত ও আহত হয। সুতরাং, তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দের পরিবর্তে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।

দেশের বেশির ভাগ মানুষ যখন দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে ছুটে যায়, সে সময় অনেক বিত্তবান ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে ঈদ উপভোগ করতে যান। ধনী-গরিবের এই বৈষম্য ঈদ উৎসবের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ উদযাপনের জন্য উৎসব ভাতা পান। এখনো দিনমজুর, কৃষক, রিকশাচালকসহ অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ এসব সুবিধা বঞ্চিত। তাছাড়া অন্যান্য পেশার মানুষ কয়েকদিন ঈদের ছুটি উপভোগ করতে পারলেও উৎসবের দিনেও কাজ করতে হয় কৃষক-দিনমজুরদের। এদিকে ঈদের আগে বেতন-বোনাস না পাওয়ায় বেসরকারি খাতের অনেক শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ঈদ উৎসব ম্লান হয়ে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category