1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
আগাম নির্বাচন এবং ভণ্ডুল চেষ্টার আওয়াজ - dailybanglakhabor24.com
  • May 10, 2024, 4:14 am

আগাম নির্বাচন এবং ভণ্ডুল চেষ্টার আওয়াজ

  • Update Time : শুক্রবার, এপ্রিল ৭, ২০২৩ | সকাল ১০:১৪
  • 65 Time View

 

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

পাল্টিাপাল্টি অভিযোগ নির্বাচনপূর্ব চলমান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে দিচ্ছে। সরকার আগাম নির্বাচন দিয়ে আরেকটি চাতুরি করতে পারে বলে শঙ্কা ভর করেছে বিএনপির মধ্যে। সরকার আগাম নির্বাচন দিয়ে বসলে বিএনপির রাজনীতিও ভোটের মাঠে আছাড় খেয়ে পড়ার অবস্থা হবে- দলটির নেতাদেরও এমন উপলব্ধি। এর প্রকাশ ঘটেছে বিএনপি মহাসচিবের কণ্ঠে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কথা আরো কড়া। তার অভিযোগ,বিএনপি সামনের নির্বাচন বানচাল করে দিতে চায়। দলটি নিজে নির্বাচন করবে না,আবার হতেও দেবে না-সরকার তা সহ্য করবে না।
তাদের কারো অভিযোগ শতভাগ মেনে নেয়ার মতো নয়। আবার ফেলনাও নয়। তবে, তাদের কারো প্রতি যে কারো সামান্যতম বিশ্বাস নেই, তা শতভাগ পরিস্কার। সরকার বুঝে ফেলেছে,ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়লে তাদের করুণ অবস্থা করে ছাড়বে বিএনপিসহ সংক্ষুব্ধ নানা মহল। আবার বিএনপি নিশ্চিৎ সরকার বিগত ২০১৪ বা ১৮ সালের মতো নির্বাচন করতে চায়। বড় জোর ধরন বদলাবে। ফলাফল একই হবে। যেমনটি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ও সুপ্রিমকোর্টে। সেই ভাবনায় বিএনপি এখন আর সংলাপের নামে আলাপ-বিলাপেও যেতে চায় না। তা হলে তারা করবেটা কী? প্রশ্নটি কুলকিনারাহীন।
বিএনপি যে পর্যায়ে এসেছে তাদের আন্দোলন ছাড়া গতি নেই। পেছনে ফেরা মানে আত্মহনন। আবার তেজোদীপ্ত আন্দোলন গড়ার শক্তি-কৌশলও নেই তাদের। সরকারি দল আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে পারঙ্গম। কিন্তু, আগামীতে ২০১৪ বা ২০১৮ স্টাইলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সুযোগ ক্রমেই কমে আসছে। সামনের দিনগুলো আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যেও এ কঠিনের ছাপ রয়েছে। এমপি প্রার্থীদের সতর্ক করতে গিয়ে বলেছেন,‘আগামী নির্বাচনে আমার দিকে চেয়ে থেকে লাভ নেই’।
বড় কঠিন বার্তা লুকানো প্রধানমন্ত্রীর এ বাক্যটির মাঝে। রাজনীতি সম্পর্কে কম বোঝা মানুষও উপলব্ধি করছেন বাংলাদেশে নির্বাচনের ঢোলে বাড়ির আওয়াজ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানার বাইরেও। সুষ্ঠু ভোটের দাবির সঙ্গে ওয়াদাও তুঙ্গে। লক্ষনীয় বিষয় এ দাবিও ওয়াদার বেশিরভাগই বিদেশিদের কাছে। বিএনপির বিদেশিদের কাছে নালিশ রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত। সেইসঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিটি স্থানিকের আওতা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক করে দেয়ার চেষ্টাও ব্যাপক। যার অর্থ, সুষ্ঠু-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের বিষয় নয়, এটি গোটা দুনিয়ারও বিষয়। এর বিপরীতে সরকারের শীর্ষমহল থেকে নির্বাচন প্রশ্নে বিদেশিদের কথা শোনা হবে না মর্মে জানানো হলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওয়াদা শোনানো হচ্ছে বিদেশিদের। গত কিছুদিন ধরে যেসব বিদেশি হাই-প্রোফাইল এসেছেন তাদের সবাইকেই আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস শোনানো হচ্ছে। এমন কি তিক্ততার মাঝেও অনেকটা বিস্ময়করভাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে চলে গেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কথা দিয়েছেন আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে।

আরো কিছু আলামতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের বিচারের তালগাছটা প্রকারান্তরে বিদেশিদের হাতে চলে যাচ্ছে কিনা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী নির্বাচন অবাধও নিরপেক্ষ হবে-কথাটি কেন সরকারি মহলকে বিদেশি অতিথিদের কাছে অবিরাম বলতে হচ্ছে? নির্বাচন প্রশ্নে বিদেশিদের কোনো কথা শোনা হবে না বলে আওয়ামী লীগের সাহসীও স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে। না শুনলে সেই বিদেশিদেরই কেন সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিতে হচ্ছে? ক্ষমতাসীনদের ঘোষণায় বিদেশিরা দমেনি। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নির্বাচনের কথা আনছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপিয় ইউনিয়ন আবার নতুন করে বলা শুরু করেছে। যুক্তরাজ্য,কানাডা,জাপানও সুষ্ঠু নির্বাচনের নসিয়ত করছে। সরকার বা সরকারি দল তা অগ্রাহ্য করছে না। বলছে না, এসব সবক তারা শুনবে না। উপরন্তু,কথা দিচ্ছে। সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওয়াদা দিচ্ছে। বিষয়টি একদিকে সাংঘর্ষিক,আরেক দিকে বিএনপির জন্য বেশ পুলকের। দলটিকে নির্বাচনে এনে দিতে মার্কিন সহায়তা চাওয়ার তথ্য মাস দশেক আগে নিজেই প্রকাশ করে উটকা ঝামেলায় পড়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মাস কয়েকের ব্যবধানে এখন বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপ ওপেন সিক্রেটের মতো। কিন্তু,বিএনপি এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে না আসতে অনড় অবস্থান নিয়ে ফেলেছে। বলছে,আগের মতো একতরফা নির্বাচন হতেও দেবে না।
নির্বাচনে আসা যে কোনো রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। আবার না আসার স্বাধীনতাও নিশ্চয়ই আছে। এ দায়িত্ব ও স্বাধীনতা দু’টাই আপেক্ষিকও যুক্তির বিষয়। কোনো দলকে নির্বাচনে আনা সরকারের দায়িত্ব না হলেও দায় রয়েছে। এখানে পারস্পরিক আস্থার বিষয় রয়েছে। যে জায়গায় চরম ঘাটতি। এর ফাঁকে বিদেশিদের সালিশ বা মধ্যস্ততার নমুনাও বেশ স্পষ্ট। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বল বিদেশিদের পায়ে বা কোটে চলে যাওয়া কারো জন্য শঙ্কার,কারো জন্য সম্ভাবনার। নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের ওপর জিরো পারসেন্ট আস্থাও নেই বিএনপির। তারা এ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে দেখেছে। নির্বাচন না করেও দেখেছে। সরকার যেন নির্বাচন করতে না পারে সেই চেষ্টাও বাদ দেয়নি। কোনো অভিজ্ঞতাই সুখকর হয়নি বিএনপির জন্য। তাহলে সামনে কোনটি করবে? বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে,তাদের ছাড়া আগামী নির্বাচন করতে পারবে না সরকার। কোন ভরসায় এমন আশাবাদ দলটির?এক কথায় জবাব নেই তাদের কাছে। রাজনীতির চেয়েও এটি বেশি হয়ে পড়েছে কূটনীতির বিষয়। যা রাজনীতিকে নিয়ে যাচ্ছে কূটনীতির বাঁকে। এদেশের নির্বাচন বা কোনো ইস্যুতে বিদেশিরা কেন নাক গলাবে?- এমন একটি তাত্বিক প্রশ্ন রয়েছে বরাবরই। আবার দেশ ভাগ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, আন্দোলন,ক্ষমতার পট পরিবর্তণের নানান ঘটনায় ছিল বিদেশি সম্পৃক্ততা।
গত দু-তিনটি নির্বাচনে কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা যা করেছেন এবার ধরনে কিছুটা ভিন্নতা। প্রকাশ্যে তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ দিয়েই যাচ্ছেন। আর ভেতরে-ভেতরে চালাচ্ছেন নানা তৎপরতা। সচরাচর কোনো রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত দেশে একজন রাষ্ট্রদূত বা অ্যাম্বাসেডর স্বাগতিক দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে নিজের রাষ্ট্রের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, সেটাই তার দায়িত্ব।
তিনি তার দেশের স্বার্থই দেখবেন। কিন্তু, বাংলাদেশে বরাবরই ওই কূটনীতিককে তার জায়গায় রাখা হয় না। ক্ষমতাসীন-ক্ষমতাহীন উভয়ই তাকে মুরুব্বির কেদারায় বসিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজেরা লাভবান ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে তৎপরতায়। তাকে নাক গলানোর যাবতীয় কূটনৈতিক বন্দোবস্ত রাজনীতিকরা করে দিচ্ছেন।
এর মাঝে নির্বাচন কমিশন থেকে ছোঁড়া দুটি বক্তব্য বাড়তি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে বলা হচ্ছে, তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চষ্টো করছেন। বিএনপি না এলে নির্বাচন ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণমূলক হবে না। আবার বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনই সর্বাত্মক অংশগ্রহণমূলক হয়নি। ইসি সচিব আলমগীরের বরাত দিয়ে কথাটি এসেছে শিরোনাম হয়ে। তার তথ্য মিথ্যা বা বেঠিক নয়। দেশের ইতিহাসে বেশির ভাগ নির্বাচনেই সব দল অংশ নেয়নি-কথা একদম সত্য। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেয়নি। নির্বাচনের দিনও সরে পড়েছিল কয়েকটি দল। সেই পুরনো তথ্য নতুন করে জানিয়ে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন দলের অংশ না নেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এই ইসি সচিব। পুরনো কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাঝেও অর্থ থাকে।

লেখক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাংলা পোস্ট, প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category